May 25, 2026, 5:00 am

স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত আক্রান্ত ডোনাল্ট ট্রাম্প

স্ত্রীসহ করোনায় আক্রান্ত আক্রান্ত ডোনাল্ট ট্রাম্প

করোনাভাইরাস মহামারীতে ধুঁকতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও আক্রান্ত হলেন।

বৃহস্পতিবার রাতে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে) এক টুইটে ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হোপ হিক্সের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে দিয়েছিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া।

বৃহস্পতিবার এক টুইটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তারা দুজনও করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন এবং কোয়ারেন্টিন শুরু করছেন। পরে সেই পরীক্ষার ফল ‘পজিটিভ’ আসার খবর দেন ট্রাম্প।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্কদের ঝুঁকিই সবচেয়ে বেশি। ৭৪ বছর বয়সী ট্রাম্প সেই বয়স শ্রেণিতেই পড়েছেন। আর মেলানিয়ার বয়স ৫০ বছর।

সিএনএন লিখেছে, কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের এরকম গুরুতর রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে ট্রাম্পের এই অসুস্থতা নতুন সঙ্কটের ঝুঁকি তৈরি করল।

৩১ বছর বয়সী হোপ হিক্স এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ এ ভ্রমণ করেছিলেন। একটি টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিতে ট্রাম্প ওহাইওতে গিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার ক্লিভল্যান্ডে প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ থেকে নামার সময় হিক্সের মুখে মাস্ক ছিল না বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

পরদিন বুধবার একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিতে হেলিকপ্টারে করে মিনেসোটায় যান ট্রাম্প। সেখানেও তার সঙ্গে ছিলেন হিক্স।হোপ হিক্স এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ এ ভ্রমণ করেছিলেন

ট্রাম্পের চিকিৎসক শন কনলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি দুজনেই আপাতত ভালো আছেন। সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত হোয়াইট হাউজে নিজেদের ঘরেই থাকার পরিকল্পনা করেছেন তারা।

আমি আশা করছি, সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেও প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব নির্বিঘ্নেই চালিয়ে যেতে পারবেন। সর্বশেষ পরিস্থিতি আমি নিয়মিত আপনাদের জানাব।

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প কোয়ারেন্টিনে চলে যাওয়ায় আগামী ১৫ অক্টোবর ফ্লোরিডার মিয়ামিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে দ্বিতীয় টেলিভিশন বিতর্কের কী হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি আছে মাত্র এক মাস। ভোট সামনে রেখে গত কয়েক সপ্তাহে নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী সফরে যাচ্ছিলেন ট্রাম্প।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই তিনি হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টির বিভিন্ন নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দিচ্ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেভাবে এই মহামারী সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তা নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনায় বিদ্ধ হতে হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা- দুদিক দিয়েই বিশ্বে এখন সবার উপরে যুক্তরাষ্ট্র।

সেখানে এ পর্যন্ত ৭২ লাখের বেশি মানুষের কোভিড-১৯ ধরা পড়েছে। দুই লাখের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্প দিনের পর দিন করোনাভাইরাসের এই সঙ্কটকে খাটো করে দেখিয়ে আসছিলেন। বিজ্ঞানীদের কথায় পাত্তা না দিয়ে প্রায়ই তিনি বলছিলেন, এ ভাইরাস মিলিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবারও এক ভোজসভায় তিনি বলেন, শিগগিরই মহামারীর অবসান হতে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন।

সংক্রমণ এড়াতে চিকিৎসকরা যেখানে মাস্ক ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে মাস্ক পরতে অনাগ্রহ দেখিয়ে এসেছেন, এমনকি যারা মাস্ক পরছেন, তাদের সমালোচনা করতে ছাড়েননি।

এখন ট্রাম্পের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার এই খবর যুক্তরাষ্ট্রে নেতৃত্ব সঙ্কটের ঝুঁকি তৈরি করল এবং মহামারীর সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুললো বলে মন্তব্য করা হয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে।
পত্রিকাটি লিখেছে, ৩ নভেম্বর ভোট সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প এখন আর সশরীরে নির্বাচনী প্রচারে থাকতে পারবেন না। হোয়াইট হাউজে কতদিন তাকে আইসোলেশনে থাকতে হবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর তার অসুস্থতা যদি বেড়ে যায়, সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনই জটিলতার মধ্যে পড়ে যেতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com